Top News

৭৮ শতাংশ ডিজিটাইজেশনেই বাংলায় বাদ ২৮ লক্ষ ভোটার? আতঙ্কে রাজ্য, নিখোঁজ ১৯ লক্ষ


ভোটারদের পূরণ করা ইনিউমারেশন ফর্ম সংগ্রহের পর রাজ্যে দ্রুতগতিতে চলছে ডিজিটাইজেশনের কাজ। এই পরিস্থিতিতে খসড়া তালিকা থেকে কতজন ভোটারের নাম বাদ পড়তে চলেছে, তা নিয়ে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত যে সংখ্যক ফর্ম ডিজিটাইজড হয়েছে, তার সঙ্গে প্রায় ২৮ লক্ষ ভোটারের তথ্য ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে ম্যাপিং ও ম্যাচিং করা সম্ভব হয়নি।

এই ২৮ লক্ষের মধ্যে প্রায় ৯ লক্ষ ভোটার মৃত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন, যা তালিকা থেকে বাদ যাওয়া প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু বাকি ১৯ লক্ষ ভোটারের কোনো হদিশ মিলছে না। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি তালিকা থেকে ২৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়া নিশ্চিত? কমিশনের ইঙ্গিত তেমনই।

১৯ লক্ষ ভোটার 'ডুপ্লিকেট', 'শিফটেড' অথবা 'অনুপস্থিত'

কমিশন প্রতিদিন রাজ্যজুড়ে ইনিউমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশনের তথ্য সংগ্রহ করছে। বুধবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ৭৮.৪২ শতাংশ ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ শেষ হয়েছে। জেলাগুলি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ৯ লক্ষ মৃত ভোটারের খোঁজ মিলেছে। ফলে ওই সংখ্যক নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া কার্যত স্থির। বাকি ১৯ লক্ষ ভোটারকে কমিশন 'ডুপ্লিকেট', 'শিফটেড' (স্থানান্তরিত) এবং 'অ্যাবসেন্ট' (অনুপস্থিত) ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ফলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, খসড়া তালিকা থেকে মোট ২৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়তে চলেছে।

কমিশনের এক কর্তা অবশ্য জানিয়েছেন, ডিজিটাইজেশনের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে সংখ্যাটি আরও স্পষ্ট হবে। ৪ ডিসেম্বর গোটা প্রক্রিয়া শেষের পর জানা যাবে ঠিক কতজন ভোটারের ম্যাপিং ও ম্যাচিং সম্ভব হল না। তবে যে সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়বে, তাঁদের সকলের তালিকা পঞ্চায়েত অফিস, বিডিও অফিস এবং জেলাশাসকের দপ্তরে টাঙিয়ে দেওয়া হবে। কারও নাম ভুলবশত বাদ গিয়েছে মনে হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ইআরও (ERO), এআরইআরও (ARERO) বা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

মৃত ভোটার চিহ্নিত করতে আধার, ব্যাংক ও সরকারি প্রকল্পের তথ্য

ভোটার তালিকায় মৃত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে কমিশন আগেই আধার-তথ্য সংগ্রহ করেছে। ২০০৯ সালে আধার চালু হওয়ার পর থেকে রাজ্যে প্রায় ৩৪ লক্ষ মৃত ব্যক্তির আধার নম্বর কমিশনকে দিয়েছে ইউআইডিএআই বা আধার কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও আধার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ১৩ লক্ষ মানুষের আধার কার্ড নেই।

শুধু আধার কর্তৃপক্ষই নয়, রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করছে কমিশন। যেসব অ্যাকাউন্টে দীর্ঘদিন কেওয়াইসি আপডেট করা হয়নি, মূলত সেই গ্রাহকদের তথ্যও কমিশনের হাতে রয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, যেমন বিধবা ভাতা ও সমব্যথীর মতো প্রকল্পে আবেদনকারীদের তথ্যও লিপিবদ্ধ করেছে কমিশন।

জানা যাচ্ছে, যে সংখ্যক ফর্মের ম্যাপিং ও ম্যাচিং করা সম্ভব হচ্ছে না, সেই সব ফর্মের সঙ্গে আগে থেকে প্রাপ্ত মৃত ব্যক্তির আধার, ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে আবেদনকারীদের তথ্য মিলিয়ে দেখার কাজ চলছে। খসড়া তালিকা প্রকাশের আগ পর্যন্ত এই কাজ চলবে।

এদিকে কমিশন সূত্রে আরও খবর, অন্য জেলাগুলির তুলনায় শহর কলকাতায় ডুপ্লিকেট, শিফটেড ও ডিলিটেড ভোটারের সংখ্যা অনেক বেশি। পাশাপাশি এখানে ফর্ম সংগ্রহ না হওয়ার সমস্যাও প্রকট। জানা গিয়েছে, কলকাতার প্রায় ৩০ শতাংশ ফর্ম এখনও সংগ্রহ করা যায়নি।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন