সিঙ্গুর থেকে শালবনী, সিঙ্গুর থেকে রাজভবন, কাকদ্বীপ থেকে কামদুনি সাইকেল জাঠা, ইনসাফ যাত্রা। এবার ভোটের ঠিক মুখে মূল ১৮ দফা দাবি নিয়ে সরাসরি সিপিআইএম-এর ডাক দিয়েছে বাংলা বাঁচাও যাত্রার। বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ছিল এই যাত্রা কি শুধুমাত্র বিধানসভা নির্বাচনের দিকে লক্ষ্য রেখে? যদিও বাংলা বাঁচাও যাত্রার প্রথম দিনেই সিপিআইএম নেতৃত্ব দুটি জনসভায় স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন এই যাত্রা শুধুমাত্র ভোটমুখী নয়।
বরং বাংলায় সর্বস্তরের নৈরাজ্য দূর করতে এই যাত্রার ডাক দিয়েছে দল।
শনিবার ২৯ নভেম্বর কোচবিহারের তুফানগঞ্জে এক সমাবেশের মধ্যে দিয়ে শুরু হল বাংলা বাঁচাও যাত্রা। সাধারণ মানুষের বিপুল উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে প্রথম দিন রাতে যাত্রা পৌঁছেছে আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটায়। রবিবার সকালে বাংলা বাঁচাও যাত্রার দ্বিতীয় দিনে ফালাকাটা থেকে যাত্রা শুরু করে ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি হয়ে রাতেই যাত্রা পৌছে যাবে উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলা।
শনিবার তুফানগঞ্জের সমাবেশ শুরুর আগে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোটোবড়ো মিছিল সমাবেশে আসে। একটি মিছিলে নেতৃত্ব দেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তুফানগঞ্জের দোলমেলার মাঠের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিআইএম কোচবিহার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায়, এসএফআই রাজ্য সভাপতি প্রণয় কার্য্যী, কৃষক সভার কোচবিহার জেলার সম্পাদক নেতা আকিক হোসেন, মীনাক্ষী মুখার্জি, মহম্মদ সেলিম।
তুফানগঞ্জে বাংলা বাঁচাও যাত্রার উদ্বোধনী সমাবেশে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ''বাংলা বাঁচাও যাত্রা আসলে নতুন বাংলা গড়ার শপথ। বাংলার পুনর্জাগরনের জন্য বামপন্থার পুনরুত্থান দরকার। এই যাত্রাপথে বিভিন্ন অংশের মানুষের সাথে কথা হবে। তাদের সমস্যার কথা জানা হবে। আমাদের লড়াইয়ের নতুন রসদ জোগাড় হবে এই যাত্রা থেকে।''
ফালাকাটার সমাবেশে মহম্মদ সেলিম বলেন, আমরা গতকাল যাত্রা শুরুর আগে কোচবিহারে মনিষী পঞ্চানন বর্মা, কিংবদন্তী ভাওয়াইয়া শিল্পী আব্বাসউদ্দিনকে স্মরণ করেছি। কারণ আমাদের শিকড় খুঁজতে হয়। যখন ঝড় ঝাপটা আসে তখন যে গাছের শেকড় অনেক গভীরে সেই গাছ পড়ে যায় না। এখন এই দুঃসময়ে আমাদের জাত পাত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের এককাট্টা হতে হবে। এই বাংলাকে আমাদের পূর্বসূরীরা তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন। অধিকার বোধ জাগিয়েছেন। তৃণমূল বিজেপি সেই অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্র রাজ্য কোথাও কোনও নিয়োগ হচ্ছে না, একটা প্রজন্মকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। বিভাজনের রাজনীতি করে টিকে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল বিজেপি। কারণ যখন মানুষকে ভাগ করে দেওয়া যায়, তখন লুঠ চলে। এর বিরুদ্ধে আমাদের এককাট্টা হতে হবে, সংঘবদ্ধ হতে হবে।
মহম্মদ সেলিম বলেন, সরকারের কাজ ছিল নিকাশি ঠিক করা, স্কুল ঠিক করে চালানো, ঠিকমত নিয়োগ করা, ঠিকমত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পরিচালনা করা। সরকারের কাজ ছিল ভোটার তালিকা ঠিক করে করা। সরকার তা করছে না। সরকার নিজের কাজ দিয়ে মন্দির মসজিদ গড়ছে। এই নৈরাজ্যের বিরুদ্ধেই আমাদের বাংলা বাঁচাও যাত্রা।
ফালাকাটার সমাবেশে মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন, গরিব মানুষের দায়িত্ব কে নেবেন? কে নেবেন শ্রমিকদের দায়িত্ব, কৃষকদের দায়িত্ব? কে নেবে চা বাগানের শ্রমিকদের দায়িত্ব? কেন আমাদের রাজ্যের যৌবনকে রাজ্য ছেড়ে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে রাজ্য ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে? আমাদের বাংলা বাঁচাও যাত্রা এসবের বিরুদ্ধেই। সব মানুষের স্বার্থে।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের মাথার ওপর পা দিয়ে বিজেপির রাজ্যের নেতারা দিল্লির সঙ্গে সেটিং করে এই রাজ্যের সরকারকে বহাল তবিয়তে দিল্লির সরকার রেখে দিচ্ছে না তো? কে করবে উৎখাত এই গুন্ডারাজের সরকারকে? এই লুটেরা সরকারকে? একমাত্র লাল ঝান্ডাই তা পারে। তাই আপনাদের কাছে আমরা এসেছি। কারণ এই লালঝান্ডাই রাস্তায় নেমে জানকবুল লড়াই করছে।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন