Top News

বন্ধুদের বচসা না দুষ্কৃতীর হামলা? শহর কলকাতার বুকে ফের শুটআউট, চরম আতঙ্কে কসবা

গভীর রাতে হঠাৎ গুলির শব্দে কেঁপে উঠল কসবা! শহর কলকাতার বুকে ফের শুটআউট—ভয়ঙ্কর উত্তেজনার পারদ
রাত তখন গভীর, ঘড়ির কাঁটা প্রায় এগারোটার ঘর ছুঁয়েছে। যে সময়ে শহর কলকাতা ধীরে ধীরে শান্ত হয়, ঠিক সেই সময়েই বোসপুকুরের প্রান্তিক পল্লী অঞ্চলে এক ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী হলো স্থানীয় মানুষজন। কসবার এই এলাকাটি কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের বাড়ির অদূরেই, যেখানে এমন দুঃসাহসিক ঘটনা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। হঠাৎ কানে এল বিকট গুলির শব্দ! মুহূর্তে নৈশ নিস্তব্ধতা ভেঙে গেল এক ভয়ঙ্কর আতঙ্ক আর চিৎকারে। জানা যাচ্ছে, এই আকস্মিক শুটআউট-এর বলি হয়েছেন এক তরুণ, তাঁর বাঁ হাতের তালুতে লেগেছে গুলি। দ্রুত তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে শহরের একটি হাসপাতালে, সেখানে শুরু হয়েছে তাঁর চিকিৎসা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন ঘটল এই ঘটনা?
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার সূত্রপাত নাকি নেহাতই বন্ধুদের মধ্যে বচসা থেকে। সামান্য তর্কাতর্কি থেকে পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যে, একজন যুবক তাঁর অন্য বন্ধুকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালিয়ে দেয়! তবে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে আরও রহস্যময় তথ্য। আহত তরুণ, অভিজিৎ নাইয়া, প্রাথমিকভাবে পুলিশকে জানিয়েছেন যে, গভীর রাতে দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি মোটরবাইকে করে এসে তাঁকে হুমকি দেয়। বচসার এক পর্যায়ে বন্দুকটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে নাকি অসাবধানতাবশত গুলি বেরিয়ে যায় এবং সেই গুলিতেই তিনি জখম হন। কিন্তু ঘটনার স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া মদের বোতল এবং খাবারের প্যাকেট এই দাবিগুলির মধ্যে অসঙ্গতি তৈরি করছে। পুলিশের সন্দেহ, এটি বন্ধুদের মধ্যেকার ঝামেলা, না কি এর পেছনে লুকিয়ে আছে আরও গভীর কোনো রহস্য, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালেই আটক করা হয়েছে অভিজিৎ সর্দার ওরফে বাবাই নামের এক তরুণকে। সেই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটিও। কিন্তু এই শুটআউটের আসল কারণ কী, কোনো পুরোনো শত্রুতা ছিল কি না, কিংবা এর পেছনে কি অন্য কোনো বড় চক্রের হাত আছে, তা খতিয়ে দেখছে কলকাতা পুলিশ। শহরের বুকে, যেখানে মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে এমনিতেই প্রশ্ন ওঠে, সেখানে গভীর রাতে প্রকাশ্যে গুলি চলার এই ঘটনা ফের একবার নাগরিক জীবনে নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিল। বোসপুকুর এলাকার মানুষজন এখন স্তম্ভিত, চাপা আতঙ্কে কাটছে তাদের সময়—পুলিশের দ্রুত এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের অপেক্ষায় সকলে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন