শহর কলকাতার বুকে, ফের একবার জালিয়াতির অন্ধকার ছায়া! পুলিশের পোশাকে এসে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে খেলছে এক প্রতারকচক্র, আর তার ফলস্বরূপ সর্বস্বান্ত হচ্ছেন বহু নিরীহ মানুষ। এবার ঘটনাস্থল এন্টালি, আর শিকার হলেন স্থানীয় এক যুবক। স্বপ্ন ছিল সিভিক ভলান্টিয়ার পদে চাকরি পেয়ে সমাজের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার, কিন্তু সেই স্বপ্নই যে এক ভয়ঙ্কর প্রতারণার ফাঁদ, তা বুঝতে পারেননি তিনি। বিশ্বাস এবং প্রয়োজনের সুযোগ নিয়ে তাঁর পকেট থেকে উধাও হয়ে গেল কষ্টার্জিত তিন লক্ষ টাকা।২০২৪ সালে দুই যুবক— চণ্ডীচরণ শিকারি এবং অমিত সর্দার— এসে হাজির হন সেই যুবকের সামনে। তাঁদের চলন-বলন, কথাবার্তা সবই ছিল বেশ বিশ্বাসযোগ্য। আশ্বাস দেওয়া হয়, পুলিশ বিভাগে স্থায়ী চাকরি নয়, তবে আপাতত একটি সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজ তিনি অনায়াসে পেয়ে যাবেন, যার জন্য সামান্য কিছু 'ব্যবস্থা' করতে হবে।
ছবি : সংগৃহীত
বেকারত্বের জ্বালায় অস্থির সেই যুবক সেই সময় যেন হাতে চাঁদ পান। চাকরির সেই লোভনীয় প্রস্তাব পেয়ে তিনি তুলে দেন পকেট থেকে দাবি করা তিন লক্ষ টাকা। বিশ্বাস করেছিলেন, এই অর্থই তাঁর ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করবে।
প্রতারকেরা অত্যন্ত সুচতুরভাবে সেই টাকা হস্তগত করার পর যুবককে ধরিয়ে দেয় একটি ভুয়ো নিয়োগপত্র। সরকারি লোগো, সিলমোহর— সবই ছিল, কিন্তু সবই নকল। নিয়োগপত্র হাতে পেয়েই শুরু হয় তাঁর দিন গোনা। কিন্তু দিন, মাস পেরিয়ে গেলেও কাজের কোনও খবর নেই। অবশেষে সন্দেহ দানা বাঁধে, আর নথিপত্র যাচাই করতেই সামনে আসে মর্মান্তিক সত্য— সবটাই ছিল সাজানো! নিয়োগপত্র থেকে শুরু করে সব নথিই জাল। প্রতারক জুটির সঙ্গে যোগাযোগ করার শেষ চেষ্টাটিও ব্যর্থ হয়, কারণ ততদিনে তারা নিজেদের আস্তানা বদলে ফেলেছে। তিন লক্ষ টাকা জলে, চাকরিও অধরা।বর্তমানে এই ঘটনায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রতারিত যুবক। পুলিশ সূত্রে খবর, এই বিপুল পরিমাণ অর্থের একাংশ নেওয়া হয়েছিল নগদে, বাকিটা অনলাইন লেনদেনের মাধ্যমে। প্রতারক চণ্ডীচরণ শিকারি ও অমিত সর্দার-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে এবং গোটা চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনা শুধু এক যুবকের স্বপ্নভঙ্গের কাহিনি নয়, এ হল সমাজের প্রতি এক সপাটে প্রশ্ন— চাকরির নামে আর কতদিন চলবে এই জঘন্য প্রতারণার জাল?
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন