Top News

'মুখ ও মুখোশ খুলে গেল', কেন্দ্রের সংশোধিত আইন লাগু করার বিরুদ্ধে সরব নওশাদ সিদ্দিকী, তৃণমূলের কৌশল কী?

কেন্দ্রের সংশোধিত আইন মেনে ওয়াকফ সম্পত্তি নথিবদ্ধ করার নবান্নের নির্দেশ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। এই নির্দেশের পর থেকেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেছেন।

তবে, সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম দাবি করেছেন, এই নথিবদ্ধকরণের অর্থ কেন্দ্রের সংশোধিত আইনকে সমর্থন করা নয়। তাঁর বক্তব্য, “ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্ত করার সঙ্গে সংশোধিত ওয়াকফ আইন মেনে নেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। ওয়াকফ আসলে সরকারি সম্পত্তি। ওয়াকফ বোর্ড সরকারের একটা অংশ। তাই আমরা সেই সম্পত্তিগুলো রক্ষা করতে নথিবদ্ধ করে ওয়েবসাইটে তুলে দিতে চাইছি।”

ফিরহাদের যুক্তিতে স্বচ্ছতার আশ্বাস:

ফিরহাদ হাকিম আরও দাবি করেন, এই নথিবদ্ধকরণের মাধ্যমে ওয়াকফ সম্পত্তি যাতে ব্যক্তিগত কাজে না লাগে বা প্রোমোটারকে দেওয়া না হয়, তা নিশ্চিত করা যাবে। তিনি বলেন, “সত্যি যদি আমরা নথিবদ্ধ করতে পারি, তাহলে কোনো ওয়াকফ জমি যদি ডেভলপ হয়, তাহলে আইন মেনে ক্যাবিনেট বা সরকারের অনুমোদন নিতে হবে।” কেন্দ্রের সংশোধিত আইনকে তিনি ‘আলো নিভিয়ে পাশ করানো বিল’ বলে অভিহিত করেন।

বিরোধী দলনেতার দ্বিচারিতার অভিযোগ:

অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি মমতার বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, “বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজে বলেছিলেন, কেন্দ্র ওয়াকফ সংশোধনী আইন পাশ করলেও, তা পশ্চিমবঙ্গে লাগু হতে দেবেন না। আজকে আমি তাঁদের বক্তব্য শুনতে চাই।” শুভেন্দু দাবি করেন, “সংশোধিত ওয়াকফ আইন নিয়ে তৃণমূলের দ্বিচারিতা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিথ্যাচার সব সামনে চলে এসেছে। আদতে অসহায় মুসলিম মহিলা ও পিছিয়ে পড়া মুসলিমদের স্বার্থে ওয়াকফ সম্পত্তিকে একটি ব্যবস্থাপনার মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে, যাকে সবাই সমর্থন করেছেন।”

নওশাদের তোপ:

আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকীও দ্বিচারিতার অভিযোগে সরব হয়েছেন। তাঁর কথায়, “আজকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিচারিতা সবার সামনে চলে এল। মানুষের সামনে মমতার মুখ ও মুখোশ খুলে আলাদা হয়ে গেল।” তিনি মনে করিয়ে দেন, মুখ্যমন্ত্রী আগে বলেছিলেন বাংলায় সংশোধিত ওয়াকফ আইন লাগু হতে দেবেন না, আর এখন নথিবদ্ধকরণের নামে তা কৌশলে লাগু করে দিলেন। নওশাদ এটিকে এসআইআর (সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট) বিরোধিতার মতোই তৃণমূলের ‘সাপও মরল, আবার লাঠিও ভাঙল না’ কৌশল বলে আখ্যা দিয়েছেন।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন