Top News

ভোটের আগে নয়, এখনই কি মমতা সরকারকে টার্গেট করে বিজেপির বড়সড় পরিকল্পনা শুরু? তৃণমূলকে সরাতে কি আগে থেকেই মাঠে নামছে বিজেপি?

এতদিন বিজেপির বিহার নিয়ে চিন্তা ছিল। কিন্তু বিহারে যে রেকর্ড জয় এসেছে, তারপরে আর পিছনে ফিরে তাকানোর মত সময় নেই গেরুয়া শিবিরের। এবার তাদের একটাই টার্গেট, বাংলা দখল। বিহারের জয়ের দিনেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলায় ক্ষমতায় আসাই যে এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য, তা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন।

আর এবার যে খবর গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহল থেকে পাওয়া যাচ্ছে, তাতে নির্বাচনের বাদ্যি বাঁচবে, তারপর পথে নামবে বিজেপি, এমনটা কিন্তু নয়। এবার অনেক আগে থেকেই তারা বাংলার ক্ষমতা পরিবর্তনের লক্ষ্য এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরানোর লক্ষ্যে শুধু রাজ্য নেতাদের নয়, ভিন রাজ্যের যারা নেতা আছেন, তাদেরকেও পশ্চিমবঙ্গের কাজে লাগাতে চাইছেন।

প্রায় সকলেই জানেন যে, পশ্চিমবঙ্গে এবার লড়াইটা কতটা জমকালো হতে চলেছে। বিজেপি খুব ভালো করেই জানে যে, এবার যদি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা দখল করা না যায়, তাহলে আর বাংলায় তাদের করার মত কিছু থাকবে না। তাই এবারের লড়াইটাকে অত্যন্ত সিরিয়াসলি নিয়েছে বিজেপি। যে কারণে ভোটের অপেক্ষায় না থেকে এখন থেকেই নতুন টিম তৈরি করে ভিন রাজ্যের নেতাদের পশ্চিমবঙ্গের সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজে মনোনিবেশ করার নির্দেশ দিচ্ছে গেরুয়া শিবির। আর অন্য রাজ্যের নেতাদের যদি বাংলার কাজে এখন থেকেই লাগানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়া হয়, তাহলে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বাংলা নিয়ে কি ইচ্ছা রয়েছে, তা আর নতুন করে বলতে হবে না। যেভাবে তারা অন্য রাজ্যের নেতাদের বাংলার কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে এবং তা ভোটের কয়েক মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা শুরু হয়েছে, তাতে বোঝাই যাচ্ছে যে, এবার কেন্দ্রীয় বিজেপিও ঝাঁপিয়ে পড়েছে বাংলা দখলের জন্য।

জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই বেশ কিছু নাম সামনে এসেছে, যারা ভিন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিজেপির নেতা মন্ত্রী। আর তাদেরকেই পশ্চিমবঙ্গের জেলা ভাগ করে দায়িত্ব দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির। যেখানে রাঢ়বঙ্গের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে পবন সাই এবং ধনসিংহ রাওয়াতকে। অন্যদিকে কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণায় দায়িত্ব পেতে পারেন কর্নাটকের সিটি রবি এবং হিমাচলের এম সিদ্ধার্থন। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের দায়িত্ব পেতে পারেন অরুণাচলের অনন্ত নারায়ণ মিশ্র। আর এখানেই গুঞ্জন তৈরি হয়েছে যে, বিজেপি তাহলে এবার বাংলাকে নিয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস ভাবে ভাবতে চলেছে। যার কারণে নির্বাচনের এখনও কয়েক মাস দেরি থাকলেও, ভোটের অপেক্ষা না করে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এবার ভিন রাজ্যের নেতাদেরও বাংলার কাজে লাগাতে চাইছে পদ্ম শিবির। তবে একদিকে রাজ্য নেতা এবং অন্যদিকে ভিন রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীদের এনে ভোটের আগে থেকেই বিজেপির সংগঠন মজবুত করার এই প্রক্রিয়া ভোটবাক্সে তাদের কতটা সুফল এনে দেয়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন