Top News

SIR আবহে রাজ্য ছাড়ছে বাংলাদেশীরা! সাংবাদিকের প্রশ্ন শুনেই ক্ষেপে লাল অরুপ, চন্দ্রিমারা!

এসআইআরের ফলে তৃণমূলের আতঙ্ক এতটাই বেড়েছে যে, তাদের নেতা-মন্ত্রীরা আর মাথা ঠিক রাখতে পারছেন না। সাংবাদিকরা কোনো প্রশ্ন করলেই তারা মেজাজ হারিয়ে একের পর এক উত্তর দিচ্ছেন। এতদিন যে তৃণমূলের নেতা, মন্ত্রীরা দাবি করতেন যে, তারা বিপুল আসল নিয়ে ক্ষমতায় আসবেন।

এখন এসআইআর আবহের মধ্যে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, প্রচুর বাংলাদেশী নাগরিক রাজ্য ছাড়তে শুরু করেছেন। আর এতেই কি অস্বস্তি বাড়ছে রাজ্যের শাসক দলের? কেননা আজ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে গিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল। আর সেখানেই তাদের এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন যে, নিউটাউন থেকে প্রচুর বাংলাদেশী চলে যাচ্ছে। আর সেই প্রশ্ন শুনেই তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে থাকা অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং পার্থ ভৌমিকরা সেই সাংবাদিকের দিকে যে ভঙ্গিমায় কথা বললেন, তাতেই বোঝা যাচ্ছে যে, তারা এসআইআরের আতঙ্কে কতটা ছটফট করতে শুরু করেছে। অন্তত তেমনটাই দাবি করছে বিরোধীরা।

এসআইআর নিয়ে তৃণমূল যে অত্যন্ত বিরক্ত এবং তারা যে অত্যন্ত চাপে রয়েছে, তা তো বোঝাই যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একের পর এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। ইতিমধ্যেই তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়ে এসআইআর স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে রাজ্যের সীমান্তে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, প্রচুর বাংলাদেশী নাগরিকদের ভিড়। যারা ক্যামেরার সামনেও বলছেন যে, তারা এতদিন এখানে ছিলেন। কিন্তু এখন এসআইআর হওয়ার ফলে তারা আবার ওপারে ফিরে যেতে চাইছেন। কিন্তু এতেই কি গাত্রদাহ হচ্ছে তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীদের? আজ খুব সহজ-সরলভাবে এক সাংবাদিক রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে যাওয়া তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের প্রশ্ন করেছিলেন যে, নিউটাউন থেকে প্রচুর বাংলাদেশী চলে যাচ্ছেন। এই বিষয়ে আপনারা কি বলবেন? আর তার প্রত্যুত্তরে পার্থ ভৌমিক, অরূপ বিশ্বাস এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যরা যে কথা বললেন, তাতেই বোঝা গেল যে, তারা এই অবৈধ বাংলাদেশি ধরা পড়ে যাওয়ার ঘটনায় অত্যন্ত বিরক্ত। অর্থাৎ বিরোধীরা এতদিন যে দাবি করে এসেছিল যে, তৃণমূল এই রাজ্যে অবৈধ বাংলাদেশিদের আশ্রয় দিয়েছে। সেটাই কি তাহলে সত্যি? তাই এসআইআর হওয়ার ফলে তারা যখন রাজ্য ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন, তখন কি তাদের থেকেও বেশি তারা কেন রাজ্য ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, এর ফলে তাদের ভোটব্যাঙ্কে শূন্যতা তৈরি হবে, সেই চিন্তা ভাবনায় কি তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের ঘুম হচ্ছে না? তাই এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে রীতিমত বিরক্তি প্রকাশ করলেন তৃণমূলের এই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা?

এদিন এসআইআর সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে যায় তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল। যেখানে উপস্থিত ছিলেন অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং পার্থ ভৌমিকরা। আর তারপরেই সাংবাদিক বৈঠকে তাদের এক মহিলা সাংবাদিক প্রশ্ন করেন যে, নিউটাউন থেকে প্রচুর বাংলাদেশী চলে যাচ্ছে, এটা তো দেখা যাচ্ছে। আর তার সাথে সাথেই রীতিমত মেজাজ হারাতে দেখা যায় তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের। অরূপ বিশ্বাস বলেন, "আপনারা তাহলে ছবি তুলুন।" আর তার কথা শেষ না হতে হতেই সেই মহিলা সাংবাদিকের উদ্দেশ্যে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে থাকা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, "যিনি পালিয়ে যাচ্ছেন, তার ভোটার লিস্টে নাম আছে? আপনি দেখেছেন?" আর এরপরই সেই মহিলা সাংবাদিক বলেন, "ওনারা তো ক্যামেরার সামনেই স্বীকার করছেন।" আর তার সাথে সাথেই আবার পার্থ ভৌমিক সেই সাংবাদিকের উদ্দেশ্য বলেন, "ওসব ক্যামেরার সামনে শেখানো লোক। অভিনয়ে শেখানো লোক। দায়িত্ব নিয়ে বলছি।" আর এখানেই বিরোধীরা বলছেন, তৃণমূলের এই যে অনুপ্রবেশকারী নেই বলে এতদিন তারা যে দাবি করেছিলেন, তাদের সেই দাবি মিথ্যা হয়ে গিয়েছে। প্রমান হয়ে গিয়েছে, রাজ্যে ঠিক কত অনুপ্রবেশকারী রয়েছে। আর এই তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসায় সেই সাংবাদিক চোখে চোখ রেখে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে এই প্রশ্ন করার কারণেই তাদের ছটফটানি বেড়ে গিয়েছে। আর সেই কারণেই একদিকে এসআইআরের আতঙ্ক, আর একদিকে অনুপ্রবেশকারীতে যে রাজ্য ভরে গিয়েছে, তা ধরা পড়ার জন্য তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা মেজাজ হারিয়ে ফেলছেন বলেই দাবি করছে বিরোধীরা।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন